...
সময় লোড হচ্ছে...

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা: ‘আমি এই কাজ করিনি’— ভারতীয় আদালতে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের দাবি এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত

Date:

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা: ‘আমি এই কাজ করিনি’— ভারতীয় আদালতে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের দাবি এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত

সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের রাজনীতি ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত নাম শরীফ ওসমান হাদি। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই সক্রিয় সংগঠককে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) তাদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এই সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম মাসুদ হাদি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি অস্বীকার করেন। এই ঘটনা এবং আসামিদের বক্তব্য কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

আদালতে ফয়সালের বক্তব্য: অস্বীকার ও রহস্যময় নীরবতা

ভারতের স্থানীয় আদালতে হাজির করার সময় আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক ও উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ভারতীয় সংবাদকর্মীরা ফয়সাল ও আলমগীরকে হাদি হত্যার বিষয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন। রিমান্ড শেষে আসামিদের চেহারা ছিল বিধ্বস্ত, তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে মুখ খোলেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ। িনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।’ তার এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে পরিণত হয়। তবে সাংবাদিকরা যখন তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে কি না, অথবা এর পেছনে অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কি না— এমন পাল্টা প্রশ্ন করেন, তখন তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থেকে, মাথা নিচু করে দ্রুত পুলিশি পাহারায় আদালতের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। তার সহযোগী আলমগীর হোসেন এ সময় আগাগোড়াই নিশ্চুপ ছিলেন। ফয়সালের এই অস্বীকারের মধ্য দিয়ে শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন করে চাঞ্চল্য এবং রহস্য তৈরি হয়েছে।

সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপন এবং এসটিএফের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

গত ডিসেম্বরে হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেশব্যাপী চিরুনী অভিযানের মধ্যেই তারা অত্যন্ত সুকৌশলে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সূত্র থেকে জানা যায়, গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বনগাঁ সীমান্ত এলাকাটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চোরাচালান এবং অবৈধ পারাপারের জন্য দীর্ঘকাল ধরেই পরিচিত। এসটিএফ জানায়, ফয়সাল ও আলমগীর অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বনগাঁর একটি প্রত্যন্ত এবং ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন।

তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কমলে সুযোগ বুঝে ফের বাংলাদেশে প্রবেশ করার। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য এবং ইন্টারপোলের সম্ভাব্য সতর্কবার্তার ভিত্তিতে এসটিএফের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ মার্চ গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ভারতীয় পুলিশ। এরপর অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

১২ ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ হামলা: যেভাবে গুলিবিদ্ধ হন হাদি

শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং লোমহর্ষক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাজপথে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সেদিন ছিল শুক্রবার। দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে পল্টন থানার অন্তর্গত বিজয় নগর এলাকার বক্স-কালভার্ট রোডের ডিআর টাওয়ারের সামনে এই জঘন্য হামলার ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার, পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী পুরো ঘটনার একটি চিত্র পাওয়া যায়। জুমার নামাজ শেষে শরীফ ওসমান হাদি মতিঝিলের একটি স্থান থেকে অটোরিকশা যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বক্স-কালভার্ট রোডে পৌঁছালে যানজটের কারণে অটোরিকশাটির গতি কিছুটা কমে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি চলন্ত এবং নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে অটোরিকশাটির পাশে এসে দাঁড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মোটরসাইকেলে দুজন আরোহী ছিল, যাদের মুখ হেলমেট ও মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই পেছনের আরোহী (যাকে পুলিশ ফয়সাল বলে সন্দেহ করছে) আগ্নেয়াস্ত্র বের করে খুব কাছ থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করে। গুলিটি হাদির মাথার ডান পাশ দিয়ে বিদ্ধ হয়। শুটার এবং তার সহযোগী মুহূর্তের মধ্যেই ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি ঘটতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে, যার ফলে আশপাশের মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অপরাধীরা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।

জীবনের সাথে লড়াই এবং সিঙ্গাপুরে মর্মান্তিক মৃত্যু

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চারপাশ রক্তে ভেসে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এবং সম্পূর্ণ অচেতন শরীফ ওসমান হাদিকে স্থানীয় কয়েকজন পথচারী ও অটোরিকশাচালক দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। মাথার ভেতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মস্তিষ্কের ব্যাপক ক্ষতির কারণে ঢামেকের চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

এরপর তাকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দেশজুড়ে তখন হাদির সুস্থতার জন্য প্রার্থনা, মসজিদে মসজিদে দোয়া এবং একইসাথে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ চলছিল। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন।

চিকিৎসকদের একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো সত্ত্বেও তার অবস্থার কোনো সন্তোষজনক উন্নতি হচ্ছিল না। এমতাবস্থায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনায় এবং সার্বিক সহযোগিতায় ১৫ ডিসেম্বর একটি বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধীনে তাকে ভর্তি করা হয়।

সিঙ্গাপুরে তিন দিন ধরে অত্যাধুনিক চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন তিনি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর সাথে সাথেই পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পল্টনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র বিক্ষোভ এবং মশাল মিছিল ছড়িয়ে পড়ে।

ইনকিলাব মঞ্চের আইনি পদক্ষেপ ও মামলার রূপান্তর

হাদির ওপর হামলার দুই দিন পর, অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। ওই মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি এবং আলমগীর হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর পর, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে এবং পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হত্যা মামলায়’ (দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা) রূপান্তরিত হয়।

মামলার তদন্তভার পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখান থেকে ব্যবহৃত ফায়ার কার্তুজ ও বুলেটের খোসার মতো গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করেন এবং আদালত এর ব্যালিস্টিক পরীক্ষার নির্দেশ দেন। আশেপাশের বিভিন্ন ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশাচালক কামালের জবানবন্দি রেকর্ড এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ ফয়সাল ও আলমগীরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে। গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গভীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

শরীফ ওসমান হাদি: জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের এক অকুতোভয় কণ্ঠস্বর

শরীফ ওসমান হাদির পরিচয় কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি পরিচিত মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন প্রগতিশীল এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

তিনি এবং তার সহযোদ্ধারা মিলে গঠন করেছিলেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি সর্বদা দুর্নীতি, অন্যায় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার ক্ষুরধার বক্তব্য এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণী ক্ষমতা তাকে দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ের একজন তরুণ নেতায় পরিণত করেছিল। অনেকেই মনে করেন, তার এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং স্পষ্টবাদী রাজনৈতিক অবস্থানই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আইন

ভারতের আদালতে আসামিদের হাজির করার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি কার্যকর বন্দি বিনিময় চুক্তি (Extradition Treaty) রয়েছে, তাই আইনিভাবে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সাথে ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে যেহেতু তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তাই ভারতীয় আইনে তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা চলছে। ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বা বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে কত দ্রুত ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় দেশের সদিচ্ছা থাকলে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা সম্ভব।

ইনকিলাব মঞ্চের আলটিমেটাম ও দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া

রোববার (২২ মার্চ) রাতেই ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারকে কঠোর আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ফয়সালের অস্বীকার করাটা খুনিদের চিরাচরিত স্বভাব। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পেছনের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক।” যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো আইনি অগ্রগতি না হয়, তবে দেশব্যাপী লাগাতার কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

উপসংহার

শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার এবং আদালতে তাদের অস্বীকার করার বিষয়টি এই মামলার তদন্তকে একটি নতুন মোড়ে নিয়ে এসেছে। এখন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের ওপর নির্ভর করছে এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত পরিণতি। তরুণ প্রজন্মের কাছে হাদি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তার প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে ফয়সাল ও আলমগীরকে কবে দেশে ফিরিয়ে এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়, সেই অপেক্ষায়।

তথ্যসূত্র (Source Links)
অনুগ্রহ করে লক্ষ্য করুন, এসইও এবং রেফারেন্সিংয়ের সুবিধার্থে সম্পূর্ণ ইউআরএল (URL) নিচে প্রদান করা হলো:
1.প্রথম আলো: https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/osman-hadi-murder-accused-faisal-karim-denies-in-indian-court
2.সারাবাংলা ডট নেট: https://sarabangla.net/news/post-1138000/inqilab-mancha-ultimatum-osman-hadi-killers
3.উইকিপিডিয়া (বাংলা): https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%93%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF
4.বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS): https://www.bssnews.net/bangla/news/hadi-murder-case-update-and-ballistic-report-2026

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Subscribe

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব কি ইরানি নেতাদের হত্যার নতুন ফাঁদ? টার্গেট কি স্পিকার গালিবাফ?

📰 যা পড়তে যাচ্ছেনঃ 🔸 ট্রাম্পের আলোচনা প্রস্তাব এবং ইরানের...

ইসরাইল ও আমেরিকার সাথে Iran War: Middle East সংকটের World News | Shornali Tv – Best News Channel in Bangladesh

ইসরাইল, আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ: একটি বিস্তারিত ও বর্তমান...

৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত? পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা ও ভয়াবহ হামলার নেপথ্য!

বর্তমান সংবাদমাধ্যমগুলো এই মুহূর্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার এই...
Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.